বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি থেকে বর্তমান সরকারকে তীব্র হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে. জোটের শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, জনকল্যাণে উত্থাপিত তাদের ৬ দফা দাবি যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এই আন্দোলন আর সাধারণ দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা সরাসরি সরকার পতনের ‘এক দফা’ আন্দোলনে রূপ নেবে. গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে বিশাল যানবাহন বহর নিয়ে এই লংমার্চ শুরু হয়. যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়. আন্দোলনকারীরা দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসনসহ জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই লংমার্চের ডাক দেন.
লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন. তিনি বলেন, “জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার রক্ষায় আজ দেশব্যাপী সংগ্রাম শুরু হয়েছে। আমরা সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে এই ৬ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নিন। অন্যথায়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মতোই এই ছয় দফা এক দফায় রূপান্তরিত হবে, আর তা হলো—সরকারের পদত্যাগ।” একই সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক তথা সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই লংমার্চ কোনো সাধারণ রাজনৈতিক দলের নয়, এটি দেশের আপামর শোষিত জনতার. সরকার যদি আমাদের এই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে সব বাধা উপেক্ষা করেই আমরা রাজপথে থাকব এবং আন্দোলনকে এক দফার চূড়ান্ত পরিণতিতে নিয়ে যাব।”
কর্মসূচির প্রধান অতিথি ও জামায়াতে ইসলামীর আমির তথা সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে সমাপনী বক্তৃতায় বলেন, এই ৬ দফা দাবি কেবল ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়, এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের বাঁচার দাবি. তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে. কৃষক সময়মতো সার পাচ্ছে না এবং চড়া মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে. তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না. জামায়াত আমির সতর্ক করে বলেন, তারা এখনই সরাসরি সরকারের পতন চাচ্ছেন না এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চান; তবে জনগণের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেলে তারা রাজপথ ও জাতীয় সংসদ—উভয় জায়গাতেই কঠোর গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন. রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী জোটের এই বিশাল শো-ডাউন এবং এক দফার আলটিমেটাম আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
মন্তব্য করুন