ইয়েমেনের কৌশলগত মোখা বন্দর পুরোপুরি কব্জা করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে। দীর্ঘ ৯ দিনের তীব্র ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে হুতি যোদ্ধারা এই ঐতিহাসিক বন্দরনগরীটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। মোখা বন্দর হাতছাড়া হওয়ার পর সরকারি বাহিনী উপকূলীয় শহর ধুবাবের (Dhubab) দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে, যেখানে হুতিরা বর্তমানে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। ধুবাব এবং এর সংলগ্ন লোহিত সাগরের পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে হুতিরা এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার ক্ষমতা অর্জন করবে। এই সামরিক আগ্রাসনের ফলে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে পড়েছে, যা ইয়েমেনকে আবারও এক ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগরের প্রধান জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ ইতিমধ্যে কার্যত অচল হয়ে পড়ায়, সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরের এই বিকল্প নৌপথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। এখন হুতিদের এই অগ্রযাত্রায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইতিমধ্যে হুতি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন আস্তানায় দফায় দফায় বিমান হামলা শুরু করেছে। অন্যদিকে, হুতিদের সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবের ভূখণ্ড রক্ষা করতে রিয়াদকে সর্বাত্মক সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। তবে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের মুখে ইরান দাবি করেছে, হুতিদের এই স্বাধীন সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর তাদের কোনো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই।
সামরিক এই সংঘাতের সমান্তরালে ইয়েমেনে এক মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিগত কয়েকদিনের তীব্র লড়াইয়ে ইতিমধ্যে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং তায়েজ ও আল-হুদায়দাহ প্রদেশের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলো থেকে ২০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে এডেন ও লহজ প্রদেশের দিকে পালিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।
মন্তব্য করুন