মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রধান নৌপথগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) বাজার খোলার পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৫৪ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ২.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.৩৪ ডলারে দাঁড়ায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় ধরনের নিরাপত্তা বিপর্যয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার কারণেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এই নজিরবিহীন অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম এভাবে আকাশচুম্বী হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথগুলোর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। সম্প্রতি একটি ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরব তাদের প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়, যা বিশ্ব বাজারের মোট সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে অবস্থিত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক তেল পরিবহন ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওমান কর্তৃক আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা বাজারে আরও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম আরও রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে পারে, যার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ বিশ্বের উদীয়মান আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিতে।
মন্তব্য করুন