ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএনপির ৭ম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা, মির্জা ফখরুলের পর মহাসচিব পদে জোর আলোচনায় রুহুল কবির রিজভী, আমির খসরু ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।
প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী ও পুনর্গঠন করতে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে দলটির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সম্প্রতি বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনীত হওয়ায় তার পদত্যাগের পর মহাসচিবের পদটি শূন্য হয়। বর্তমানে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া রুহুল কবির রিজভী দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব পদের দৌড়ে মাঠপর্যায়ে ও দলীয় কার্যালয়ে অবিচল আনুগত্যের কারণে তিনি অন্যতম প্রধান দাবিদার। তবে দলের স্থায়ী কমিটির একটি অংশের মতে, ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র কোনো নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। সেই সূত্রে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলানো জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুই প্রভাবশালী সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদের নামও শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় ব্যাপকভাবে উঠে আসছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই জাতীয় কাউন্সিল সম্পন্ন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে দলের কিছু শীর্ষ নেতার মতে, তৃণমূল পুনর্গঠন নিখুঁত করতে এটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে। অতীতের মতো কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া কমিটি নয়, বরং এবার তৃণমূল-বান্ধব উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। প্রথমে ওয়ার্ড পর্যায়, এরপর ইউনিয়ন ও থানা কমিটির কাউন্সিল শেষে সর্বশেষ জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার পর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কাউন্সিলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন ঢেলে সাজানো হবে। তরুণ ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া অন্যতম মূল লক্ষ্য। এর পাশাপাশি, দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখা’ তৃণমূল পর্যায়ে শতভাগ পৌঁছে দেওয়া এবং তা বাস্তবায়নে রোডম্যাপ তৈরি করা এই কাউন্সিলের বড় এজেন্ডা।
সংবিধানে সংস্কারের পাশাপাশি দলের ভেতরেও কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদের বেশি একক পদে থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গঠনতান্ত্রিক সংশোধনী আসতে পারে। বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, স্থায়ী কমিটির চারজন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নীতি-নির্ধারণী ফোরামকে ইতিমধ্যে শক্তিশালী করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে কে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসচিব পদে স্থলাভিষিক্ত হবেন, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনের ওপর।
মন্তব্য করুন