আজ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের বহুল আলোচিত “লং মার্চ” কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকট সমাধান, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এই রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় শাপলা চত্বরে এক বিশাল উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই লং মার্চের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, যেখানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যের পর সকাল সোয়া ৮টার দিকে প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০টি যানবাহনের একটি বিশাল বহর নিয়ে নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়া এই লং মার্চে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মতো দলগুলোও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নিয়েছে। মহাসড়কে যানজট এড়াতে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের গাড়িগুলো সরাসরি চললেও, পথে পথে নারায়ণগঞ্জ (কাঁচপুর), কুমিল্লা (পদুয়ার বাজার), ফেনী (মহিপাল) এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্থানীয় ইউনিটের উদ্যোগে বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। লং মার্চের এই দীর্ঘ যাত্রা আজ রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে একটি মহাসমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হিসেবে জোটের পক্ষ থেকে একটি ৬-দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা, সার ও বিদ্যুৎসহ জ্বালানি সংকট দূর করা, এবং সর্বস্তরে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে বাজারমূল্য সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণে আনা। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার যদি জনগণের এই ন্যায্য দাবি মেনে না নেয় বা এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে এই ৬-দফা আন্দোলন পরবর্তীতে সরকার পতনের একদফা দাবিতে রূপ নিতে পারে। এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সচিব রাশেদ খান এই লং মার্চের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে মহাসড়ক অবরোধ করে হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে এমন কর্মসূচি কেবল জ্বালানির অপচয় বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তৈরি করবে। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত দুই দশকের পুঞ্জীভূত এবং কাঠামোগত সমস্যাগুলোর জন্য মাত্র ছয় মাস বয়সী একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন বিএনপি সরকারকে সরাসরি দায়ী করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। জোটের নেতারা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির পর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা, ২৪ অক্টোবর ট্রেনযোগে ঢাকা থেকে সিলেট এবং আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় সমাপনী মহাসমাবেশের মাধ্যমে তাদের এই ধারাবাহিক আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে।
মন্তব্য করুন