হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর কাছ থেকে প্রায় ১৪ কেজি ওজনের ১২০টি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে কাস্টমস হাউস ও গোয়েন্দা সংস্থা। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে এই বিশাল স্বর্ণের চালানটি উদ্ধার করা হয়। চোরাচালানের অভিযোগে আটক ওই কর্মীর নাম মো. সোয়েব গাজী (সজিব)। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেকানিক বা অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার হিসেবে কর্মরত আছেন। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, জব্দকৃত ১৩ দশমিক ৯২ কেজি স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং হ্যাঙ্গার এলাকায় কঠোর নজরদারি শুরু করে। দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে (বিজি-১৪৮) এই স্বর্ণের চালানটি আসে। বিমানটি অবতরণের পর সজিব নামের ওই কর্মী সেখানে কাজ করতে যান এবং স্বর্ণের বারগুলো তার নিজের জিম্মায় নেন। তিনি যখন প্যান্টের বেল্টের ভেতরে বিশেষ কায়দায় কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় স্বর্ণগুলো লুকিয়ে বিমানবন্দর পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই যৌথ বাহিনী তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে তার দেহ তল্লাশি করে ১২০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
বিমানবন্দর কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, জব্দকৃত এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার কাস্টমসের সুরক্ষিত গুদামে (ডিএমডব্লিউ) জমা রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে হস্তান্তর করা হবে। আটককৃত বিমানকর্মী সোয়েব গাজীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় চোরাচালান বিরোধী কঠোর আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সাথে এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বড় চোরাচালান সিন্ডিকেট বা বিমানবন্দরের আর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গভীর তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উল্লেখ্য, এর মাত্র দুদিন আগে গত ২ সেপ্টেম্বর রাতেও এই শাহজালাল বিমানবন্দরেই সিটের নিচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯ কেজির বেশি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন