রাজধানী ঢাকায় প্রতিনিয়ত চারটি প্রধান কৌশলে ছিনতাই হচ্ছে. সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, গত ৬ মাসে এই ধরনের ছিনতাইয়ের কারণে অন্তত তিনজন নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং অপরাধের প্রকৃত তথ্যের কোনো সঠিক হিসাব বা বিচার মিলছে না.
নিচে ঢাকার ছিনতাই পরিস্থিতি ও এর মূল কারণগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
ছিনতাইয়ের চার প্রধান কৌশল
১। যান থেকে হ্যাঁচকা টান (টানা পার্টি): মোটরসাইকেল বা প্রাইভেটকার নিয়ে এসে চলন্ত রিকশা, অটোরিকশা বা বাসের জানালা দিয়ে ব্যাগ ও মোবাইল টেনে নেওয়া হয়. এর ফলে যাত্রীরা ছিটকে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন.
২। অস্ত্রের মুখে জিম্মি: নিরিবিলি বা অন্ধকার রাস্তায় পথচারীদের ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া হয়.
৩। নগদ টাকা বহনকারীদের টার্গেট: ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে বের হওয়া ব্যক্তিদের ওত পেতে থেকে আক্রমণ করা হয়.
৪। পরিবহন বা যাত্রী বেশে অপহরণ স্টাইল: ফাঁকা রাস্তায় একাকী দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের প্রাইভেটকার বা পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে অন্য কোথাও ফেলে দেওয়া হয়.
হিসাব ও বিচার না থাকার কারণ
মামলা না নিয়ে ‘হারানো‘ জিডি: থানায় গেলে পুলিশ অনেক সময় ছিনতাইয়ের মামলা না লিখে সাধারণ ডায়েরি বা ‘হারানো’ জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করে. এর ফলে অপরাধটি সরকারি পরিসংখ্যান বা খাতা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়ে যায়.
হয়রানির ভয় ও অনীহা: খোয়া যাওয়া মালামাল ফেরত পাওয়ার আশা না থাকায় এবং আইনি জটিলতা এড়াতে ভুক্তভোগীরা নিজেই থানায় অভিযোগ করতে চান না.
সহজে জামিন পাওয়া: পুলিশ অনেক সময় অপরাধীদের ধরলেও তারা দ্রুত আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়ে.
প্রধান হটস্পট ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়
হটস্পট: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মধ্যে তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে.
ঝুঁকি: ভোরবেলা (যখন দূরপাল্লার যাত্রীরা ঢাকা নামেন) এবং গভীর রাতে ফাঁকা রাস্তায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
মন্তব্য করুন