বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকালে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন ও ভাবগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তাঁর পিতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তাঁর মাতা, সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর এটিই দলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, যা নেতাকর্মীদের মাঝে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে শহীদ জিয়ার মাজার এবং পরবর্তীতে পাশে নবনির্মিত বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং প্রয়াত দুই নেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে ফাতেহা পাঠ করেন এবং মরহুম নেতাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত শেষে একটি সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জিয়া উদ্যান প্রাঙ্গণে পরিবেশ সুরক্ষায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং উদ্যানের লেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও মাজার প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে নেওয়ার পর সর্বসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন এবং খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যান এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। দীর্ঘ দুই দশক পর দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফেরার পর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। পুরো শেরেবাংলা নগর এলাকা এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। এই গৌরবোজ্জ্বল দিনটি উদযাপনে দলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয়ভাবে ৫ দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন