অনলাইন ডেস্ক
২৭ অগাস্ট ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মাদক ও জমির বিরোধে রংপুরে ৪ খুন: সময় ও স্থান নিয়ে আরএমপি কমিশনারের নতুন ভাষ্য

রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় স্থান, সময় এবং খুনের মোটিভ নিয়ে এক নতুন ও সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট, ২০২৬) আরএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এই নতুন তথ্য জানান। এর আগে পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্য এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের মধ্যে কিছু অমিল থাকায় তৈরি হওয়া বিতর্কের মুখে এই আনুষ্ঠানিক সংশোধনী দেওয়া হলো।

. হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত স্থান

পুলিশের নতুন ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনাস্থল ঘরের ভেতরে ছিল না, বরং ছিল তিন তলা ভবনের খোলা ছাদে। পুলিশ কমিশনার মাবুদ জানান, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তীকে ছাদেই হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা প্রীতিলতা ও আগামীর মরদেহ ছাদের গেটের ভেতরের সিঁড়িতে সরিয়ে রাখে, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে লাশ দেখা না যায়। তবে পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য, ১২ বছর বয়সী আয়ুশ চক্রবর্তীকে ঘরের ভেতর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। সে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘরের ভেতরে খুনিদের মুখোমুখি হয়ে যাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

. ঘটনার সময় পরিবর্তন

হত্যাকাণ্ডের সময় নিয়েও আগের তথ্য সংশোধন করেছে পুলিশ। প্রথম দিকে ধারণা করা হয়েছিল যে অপরাধটি গভীর রাতে ঘটেছে। তবে আরএমপির নতুন তদন্ত অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে ভোরবেলা বা দিনের আলো ফোটার পর। এই নতুন সময়টি শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর প্রাতঃভ্রমণের অভ্যাসের সাথে মিলে যায়, যিনি সকালে ছাদে হাঁটার সময় খুনিদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

. খুনের মোটিভ: মাদক পুরনো ক্ষোভ

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাৎক্ষণিক মাদকজনিত বিরোধ এবং একটি পুরনো পারিবারিক ক্ষোভ কাজ করেছে। ঘটনার দিন সকালে গ্রেপ্তারকৃত দুই তরুণ—সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস—গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলেন। ওই সময় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের দেখে ফেলেন এবং তীব্র বকাঝকা করেন। মাদকাসক্ত অবস্থায় নিজেদের পরিচয় লুকাতে তারা প্রথমে শিক্ষককে শ্বাসরোধ করেন। এরপর চিৎকার শুনে স্ত্রী ও মেয়ে একে একে ছাদে এলে তাদেরও হত্যা করা হয়।এর পাশাপাশি আরএমপি কমিশনার একটি দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের কথা উল্লেখ করেন। যে জমির ওপর চক্রবর্তীর বাড়িটি নির্মিত, সেটি মূলত প্রধান অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের পূর্বপুরুষেরা গণপতির কাছে বিক্রি করেছিলেন। ওই জমি বিক্রির টাকা বণ্টন এবং বর্তমান চড়া দাম নিয়ে সিদ্ধার্থের পরিবারের একাংশের মনে ক্ষোভ ছিল। এই বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

. ফরেনসিক পরীক্ষা পরবর্তী পদক্ষেপ

নিহত নারী সদস্যদের নিয়ে ওঠা বিভিন্ন গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে আরএমপি প্রধান নিশ্চিত করেছেন যে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী নিহতদের শরীরে কোনো ধরনের যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি। মামলার সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত করতে গ্রেপ্তারকৃত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং ডোপ টেস্ট করা হবে। এছাড়া, সিসিটিভি ক্যামেরা বা বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত একটি প্লায়ার্স উদ্ধার করা হয়েছে, যা দিয়ে তারা বাড়ির বৈদ্যুতিক তার কেটেছিল।

উল্লেখ্য, পুলিশের প্রাথমিক বিবরণের সাথে চিকিৎসকদের বক্তব্য ও স্থানীয় তথ্যের অমিল থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কোতোয়ালি থানা থেকে ইতিমধ্যেই এর তদন্তভার মহানগর ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ব তেলের বাজারে আগুন, ব্যারেলপ্রতি দাম ১০৭ ডলার পার

বিদ্যুৎ খাতে স্বস্তির মাঝেই অস্বস্তি: আদানির ইউনিট সচল, বন্ধ হলো রামপাল

৭ দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ রুনির ভাইয়ের, সাবেক সামরিক কর্মকর্তার কল রেকর্ডের সূত্র মেলার দাবি চিফ প্রসিকিউটরের

চুক্তির এলএনজি সংকটে বিপাকে দেশ: বিকল্প উৎস ও দেশীয় অনুসন্ধানে সরকারের মহোদ্যোগ

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে সরব শি জিনপিং

ইশতেহার পূরণে ব্যর্থ জাকসু: নেতাদের চাঁদাবাজি ও লেজুড়বৃত্তির বিতর্কে ক্ষুব্ধ জাবি শিক্ষার্থীরা

কঙ্গোর বুকাভুতে বিদ্যালয়ে আগুন, পদদলিত ও দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারাল ২৯ শিক্ষার্থী

৭ বছর পর ভারত সফরে শি জিনপিং: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট

মধ্যপ্রাচ্যে নৌপথে তীব্র অস্থিরতা: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়াল

১০

ইউক্রেনের শপিং মলে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলা: নিহত ৫, শিশুসহ আহত অন্তত ৬৭

১১

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অবসান, যাত্রা শুরু করছে ‘এসআরবি’

১২

হুতিদের দখলে ইয়েমেনের মোখা বন্দর, বাব আল-মান্দেবও কব্জার পথে

১৩

তদন্তের মুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ

১৪

চট্টগ্রাম হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনা, নিহত ২

১৫

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের দুয়ার খুলছে: প্রথম ধাপে যাচ্ছে ১০ হাজার জনশক্তি

১৬

রাশিয়ায় গ্যাস কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণ: নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে, বাকিরা ফিরবেন সপ্তাহে

১৭

সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাবনা: মেধার মূল্যায়ন নাকি দুর্নীতির নতুন দুয়ার?

১৮

আগামীকাল দুপুর থেকে ঢাকার বড় অংশে টানা ৮ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ

১৯

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার নির্দেশ

২০