ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে এক নবজাতকসহ একই পরিবারের তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) দিবাগত গভীর রাতে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন একটি চারতলা বাড়ির চারতলার একটি কক্ষ থেকে এই লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী এবং একটি সদ্যোজাত শিশু রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই কক্ষটি থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে এই নৃশংস ঘটনার বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট ওই নারী ও পুরুষ নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জামগড়ার এই বাসাটি ভাড়া নেন। প্রতিবেশীদের তথ্যমতে, নিহত পুরুষের নাম আলমগীর, যিনি পেশায় একজন হকার ছিলেন এবং নারীর নাম নাজমা, যিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফ্ল্যাটটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়া ও প্রতিবেশীরা বাড়ির মালিককে জানান। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ভোররাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে বিছানার ওপর তিনটি অর্ধগলিত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের অবস্থা দেখে পুলিশের ধারণা, অন্তত ৩-৪ দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। উদ্ধারকৃত পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, মৃত নারীটি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশের অনুমান, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার সময় বা তার ঠিক পূর্বমুহূর্তে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণার কারণে ওই নবজাতক শিশুটির জন্ম হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সিআইডির (CID) ক্রাইম সিন ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সিআইডির ফরেনসিক দল ঘরটি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এবং স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই সাথে তারা আসলেই স্বামী-স্ত্রী ছিলেন কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বা সামাজিক শত্রুতা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন