সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে চরম অসন্তোষের জেরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছেন বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে আরও ১০টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। তবে গঠিত এসব কমিটির কোনোটিতেই বিরোধী দলের কাউকে সভাপতি পদ না দেওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরাচারী মনোভাব’ ও ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বেপরোয়া আচরণ’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দল তাদের মোট আসনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী সংসদের মোট ৫০টি কমিটির মধ্যে ২৬ শতাংশ অর্থাৎ ১৪টি কমিটির সভাপতি পদের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত গঠিত ২৫টি কমিটির মধ্যে বিরোধী দলকে মাত্র একটি কমিটির (সরকারি হিসাব কমিটি) সভাপতিত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল নতুন করে আরও ১০টি কমিটি গঠনের পর নিজেদের বঞ্চিত দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী দলের সদস্যরা। ডা. তাহের সরকারি দলের উদ্দেশ্যে বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী আসনসংখ্যার আনুপাতিক হারে বিরোধী দলকে পদ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সরকারি দল সেই নিয়ম অমান্য করে এককভাবে সব পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখছে, যা সংসদে চরম বৈষম্য তৈরি করছে।
এদিকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দল প্রতিনিধি দিলে তাদের আনুপাতিক হারে বাকি কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া হবে। সরকারি দলের এই শর্তকে অপমানজনক আখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, “আমরা বাচ্চা ছেলে না যে আমাদেরকে ললিপপ দেখায়া দেখায়া নিয়ে যাবেন।“ তিনি স্পষ্ট করেন যে, শর্ত দিয়ে বিরোধী দলকে বশ করার চেষ্টা সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এই তীব্র বাকবিতণ্ডার পর অধিবেশনের শেষ মুহূর্তে দু-একজন ছাড়া বিরোধী দলের প্রায় সব সদস্য সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। তারা এটিকে আনুষ্ঠানিক ‘ওয়াকআউট’ না বললেও, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে সংসদ বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন