বাংলাদেশে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুন মাস থেকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। জুলাই মাসে যেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯,২০৬ জন, সেখানে আগস্টের প্রথম ১৭ দিনেই সেই রেকর্ড ভেঙে রোগী ভর্তির সংখ্যা ৯,৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপক ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ বর্তমানে ২০-এর অনেক ওপরে রয়েছে, যা যেকোনো এলাকায় মহামারী ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসকে ডেঙ্গুর ‘পিক সিজন’ বা সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময় ধরা হয়। এই সময়ে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার প্রজনন বহুগুণ বেড়ে যায়, যার ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের প্রধান শহরগুলো এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, এবারের ডেঙ্গুর লক্ষণগুলোতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, তাই সাধারণ জ্বর হলেও অবহেলা করা যাবে না। তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং শরীরে প্রচণ্ড ব্যথার পাশাপাশি আক্রান্তদের অনেকেরই প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পর রোগীরা যখন ‘ক্রিটিক্যাল ফেস’ বা বিপজ্জনক ধাপে প্রবেশ করেন, তখন মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ, তীব্র পেট ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন) খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ, কারণ এতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়ে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ি ও আশেপাশে ৩ দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া, ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং আক্রান্ত রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার যেমন ডাবের পানি ও ওরস্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন