যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদক ইতিমধ্যে ৪ সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সংস্থার উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম। আসিফ মাহমুদ ছাড়াও এই অনুসন্ধানের তালিকায় থাকা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অন্য ৩ শীর্ষ কর্মকর্তা হলেন সাবেক সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রায় হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেআইনি কাজ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ, বিদেশে অর্থপাচার এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েন লেনদেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পুনর্গঠনে সরাসরি নিয়মবহির্ভূত হস্তক্ষেপ এবং তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে গঠিত সিন্ডিকেটের সাহায্যে মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটা ও বদলি বাণিজ্যে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। দুদকের বিশেষ টিমটি ইতিমধ্যেই নথিপত্র সংগ্রহ ও তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন