বাংলাদেশে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও এক ধাপ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭.৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোর তুলনায় সাক্ষরতার হারে এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে। পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপের উপাত্তে এই হার সর্বোচ্চ ৭৮.৯৮ শতাংশ পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে, যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি বড় প্রমাণ। তবে এই অগ্রগতির মাঝেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে; দেশের প্রায় ২২.১ শতাংশ মানুষ এখনও নিরক্ষরতার আওতায় রয়েছেন, যারা মৌলিক শিক্ষা ও জীবনমুখী দক্ষতা থেকে বঞ্চিত।
এই নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-বঞ্চিত ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের দক্ষ করে তুলতে সরকারের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো দেশব্যাপী বিভিন্ন বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর অধীনে বিভিন্ন জেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হচ্ছে, যাতে কর্মক্ষম ব্যক্তিরা কেবল অক্ষরজ্ঞানই লাভ না করেন, বরং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পান। দেশের শতভাগ মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের অংশ হিসেবে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যথাযথ কর্মপরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
মন্তব্য করুন