বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার এক নজিরবিহীন খতিয়ান তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন-অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা’ শীর্ষক একটি বিস্তারিত পুস্তিকা প্রকাশ করে প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, পরিবর্তনের যে গভীর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, গত ৬ মাসে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি; বরং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ও পুরোনো ফ্যাসিবাদী ধারার পুনরুত্থান ঘটেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ আইন বাতিল বা দুর্বল করার চেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পূর্ববর্তী সরকারের মতোই ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে অভিযোগ তোলেন।
পুস্তিকাটির বিস্তারিত অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম জানান, বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা দৃশ্যমান হয়েছে দেশের জ্বালানি, বাজার ও কৃষি খাতে। এনসিপির পলিসি ও রিসার্চ উপকমিটির সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে শিল্প উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে, ব্যাংকিং খাতে পুরোনো ধাঁচের লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা ফিরে এসেছে এবং সারের তীব্র সংকটের কারণে প্রান্তিক কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ গুনে প্রতারিত হতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অবমূল্যায়ন করে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই সনদ ও গণআকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বল অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শেখ হাসিনার বিচার সম্পন্ন হওয়া এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত না আনা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কোনোভাবেই ভারত সফর করা সমীচীন হবে না; দিল্লির সংবাদ সম্মেলনকে ভারত সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত মদদ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। পরিশেষে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে যদি এই ভুল নীতি ও চরম অব্যবস্থাপনা পরিহার করে জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এনসিপি সমমনা ১১ দলীয় ঐক্যকে সাথে নিয়ে দেশের ৫ থেকে ৬টি প্রধান বিভাগে লংমার্চ এবং রাজধানী ঢাকায় এক বিশাল মহাসমাবেশের মাধ্যমে রাজপথে কঠোর ও এক দফা আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবে।
মন্তব্য করুন