শতকোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এখনো কোনো সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফেরেনি. বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ও বিমানবন্দর সদৃশ এই টার্মিনালটি বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জৌলুস হারাতে বসেছে. উদ্বোধনের মাত্র কয়েক বছরের মাথায় যাত্রীসেবার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, যার ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও স্থানীয় নাগরিককে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি.
সড়ক দখল ও তীব্র যানজট
টার্মিনালের মূল অবকাঠামোর ভেতরে পর্যাপ্ত পার্কিং জোন ও বাস বে (Bus Bay) থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ দূরপাল্লার বাস ভেতরে প্রবেশ করছে না. চালক ও শ্রমিকেরা টার্মিনালের সামনের মূল সড়কে এলোপাতাড়িভাবে শত শত বাস পার্কিং করে রাখছেন. এতে করে কদমতলী ও হুমায়ুন রশীদ চত্বর সংলগ্ন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দিনরাত তীব্র যানজট লেগে থাকছে. স্থানীয়দের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট তদারকি ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগের অভাবে কোটি টাকার টার্মিনাল ফাঁকা রেখে বাইরের রাস্তা দখল করাই এখন প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে.
নষ্ট সুযোগ–সুবিধা ও নোংরা পরিবেশ
টার্মিনাল ভবনের ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে এসি লাউঞ্জ, ১৫০০ আসন বিশিষ্ট বিশাল ওয়েটিং জোন এবং আধুনিক ওয়াশরুম তৈরি করা হয়েছিল. তবে বর্তমানে এই আধুনিক সুযোগ-সুবিধাগুলোর বেশিরভাগই অকেজো. লাউঞ্জের ভেতরের ফ্যান ও লাইট নষ্ট হয়ে ঝুলে আছে, শত শত বসার চেয়ার ভেঙে পঙ্গু হয়ে রয়েছে এবং চারপাশ ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে. এমনকি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (AC) অচল থাকায় যাত্রীরা সেখানে বসার পরিবেশ পাচ্ছেন না.
নিরাপত্তা সংকট ও অবৈধ সিন্ডিকেট
টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে সিসিটিভি মনিটরিং রুমটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে. নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পুরো লাউঞ্জ এখন মাদকসেবী ও ভাসমান অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে. সিসিকের (সিলেট সিটি করপোরেশন) নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইজারাদার ও প্রভাবশালী শ্রমিক সিন্ডিকেট টার্মিনাল চত্বরে অবৈধ অতিরিক্ত কাউন্টার, দোকান ও স্থাপনা তৈরি করে ভাড়া আদায় করছে.
প্রশাসনের সাম্প্রতিক তৎপরতা
টার্মিনালে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ সম্প্রতি কদমতলী এলাকায় বেশ কিছু মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেছে. ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও মহাসড়কে অনুমোদনহীন স্লিপার বাস সার্ভিস চালানোর দায়ে একাধিক পরিবহন সংস্থাকে বিপুল অর্থ জরিমানা করা হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না. স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই মেগা প্রজেক্টের সুফল ধরে রাখতে অবিলম্বে সিসিক ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট গঠন করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন.
মন্তব্য করুন