হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত জলপথে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যার জেরে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ৯৬ ডলার ছাড়িয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। মার্কিন বাহিনী সফলভাবে সেই হামলা প্রতিরোধ করার পর ওয়াশিংটন তীব্র পাল্টা আঘাত হানে এবং ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের উপকূলসহ বিভিন্ন স্থানে তেহরানের ৩টি বড় তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস ও অচল করে দেয়। এই মার্কিন অ্যাকশনের জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালীতে অনুমোদিত রুট না মেনে চলার অভিযোগে ৩টি তেল ট্যাংকার এবং আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত আরও ৩টি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সফল হামলা চালানোর দাবি করে। এই রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলার পর আইআরজিসি (IRGC) পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী সমস্ত আন্তর্জাতিক জাহাজের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, কেউ যেন আমেরিকার উস্কানিমূলক নির্দেশ মেনে না চলে এবং তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা না দেখায়, অন্যথায় তাদেরও কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং সেন্টকম প্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের ১টি গুলির জবাবে আমেরিকার ৩টি ট্যাংকার উড়িয়ে দেওয়ার নীতি বজায় থাকবে, অন্যদিকে ইরানও মার্কিন সামুদ্রিক অবরোধের বিরুদ্ধে যুদ্ধজাহাজে হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দেওয়ায় পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে।
মন্তব্য করুন