বাংলাদেশ বিমান বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং (Boeing)-এর কাছ থেকে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে এক বিশেষ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর এই ঐতিহাসিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া–বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এই নতুন মেগা চুক্তির তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এই বাণিজ্যিক উদ্যোগকে একটি ‘অভূতপূর্ব এবং অবিশ্বাস্য চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক কূটনীতির বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই নতুন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ তার প্রাথমিক বিমান কেনার অর্ডারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়েছে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল (২০২৬) রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৫,৪০৮ কোটি টাকা) মূল্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছিল। আগের সেই তালিকায় ছিল আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট। নতুন এই সম্প্রসারিত চুক্তির ফলে উড়োজাহাজ ক্রয়ের সংখ্যা ও মোট বিনিয়োগের পরিমাণ আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাবে।
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বোয়িংয়ের এই মেগা চুক্তিটি শুধু বিমান কেনাকাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের পরিকল্পনা করছিল, এই চুক্তিটি তার একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশলগত জবাব বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্বে ফরাসি প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে বিমান কেনার প্রাথমিক কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ব্যবধান কমানো এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বোয়িংয়ের ওপরই পূর্ণ আস্থা বজায় রেখেছে।
মার্কিন দূত সার্জিও গর তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের এই বিশাল বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ বেতনের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে নতুন এই সম্প্রসারিত চুক্তির অধীনে ঠিক কতগুলো উড়োজাহাজ কেনা হবে, তার সুনির্দিষ্ট মডেল এবং চূড়ান্ত আর্থিক মূল্য কত— তা এখনো ঢাকা কিংবা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশের এই বিশাল বিমান বহর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার এবং ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে বিমানে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন