সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের (সিএআর) পশ্চিমাঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ স্বর্ণখনি ধসের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক রূপ নিয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট, ২০২৬) সকালে দেশের নানা-মাম্বেরে জেলার আব্বা এলাকায় অবস্থিত খনিটিতে এই বিপর্যয় ঘটে, যা ক্যামেরুন সীমান্তের জ্যাম্বোয়ে গ্রামের কাছাকাছি অবস্থিত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর প্রাপ্ত ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চরম বিশৃঙ্খল ও আকুল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে; কাদা-মাটিতে লেপ্টে থাকা শত শত তরুণ-তরুণী সম্পূর্ণ খালি হাতে এবং সনাতন পদ্ধতিতে মাটির বিশাল গর্ত থেকে একের পর এক মরদেহ টেনে বের করছেন। আব্বা এলাকার ডেপুটি মেয়র সোলেইমানে বি এই দৃশ্যকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং আটকা পড়াদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্লোরিয়ান গাগুয়েন্ডে নামের এক বেঁচে যাওয়া খনিশ্রমিক জানান, ধসের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে মাটির নিচে এখনও অনেক শ্রমিক চাপা পড়ে আছেন এবং সময় গড়ানোর সাথে সাথে তাদের জীবিত পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়া নাগাদ নিহতের সংখ্যা ৩০ থেকে আরও অনেক বাড়তে পারে।
এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ মাটি সোনা ও হীরায় সমৃদ্ধ হওয়ায় হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা চরম দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশাকে বেছে নেয়। তবে এই প্রথাগত বা ক্ষুদ্রাকৃতির (Artisanal) খনিগুলো সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি নিরাপত্তা তদারকি ছাড়াই পরিচালিত হয়। শ্রমিকরা কোনো প্রকার সুরক্ষাসামগ্রী বা হেলমেট ছাড়াই মাটির গভীরে সুড়ঙ্গ তৈরি করে কাজ করায় এবং সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এই আকস্মিক ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির সরকারি মুখপাত্র এভারিস্ট এনগামানা জানিয়েছেন যে, সরকার হতাহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে এবং আহত খনিশ্রমিকদের চিকিৎসা ও জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। ক্যামেরুন ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের সীমান্ত সংলগ্ন এই অঞ্চলের অন্যান্য খনিগুলোতেও নিরাপত্তা ঝুঁকি চরম পর্যায়ে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এখন গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন