ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িত তার সহযোগীদের আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন। রিজভী বলেন, বাংলাদেশের আদালতের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর পরও ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিচ্ছে না, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, একজন স্বৈরাচারকে এভাবে সুরক্ষা দেওয়া এবং বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করার এই ভারতীয় কূটকৌশল এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।
প্রতিবাদ সভায় রিজভী আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের বর্তমান নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণের জেরে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ করে বন্ধ করা হয়েছে, যা স্রেফ একটি রাজনৈতিক কূটকৌশল ও চাপ সৃষ্টির অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। রিজভী আরও দাবি করেন যে, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশে দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ বাকস্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে, এবং গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটেছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহাসিক নাম পরিবর্তনের যেকোনো ধরনের চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসকে মুছে ফেলার কোনো অপচেষ্টা এ দেশের ছাত্র সমাজ সফল হতে দেবে না।
মন্তব্য করুন