ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিটটি দীর্ঘ ৮৪ ঘণ্টা পর পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে স্বস্তির এই খবরের পরপরই দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন সংকট তৈরি করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়, যার ফলে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত ১২টার দিকে বয়লার ও অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আদানির ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি আকস্মিক বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় সংস্কার কাজ চালানোর পর আজ রোববার ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয় এবং দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়। আদানির এই ইউনিটটি সচল হওয়ার মাধ্যমে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছিল।
তবে আদানির ইউনিটটি গ্রিডে যুক্ত হওয়ার ঠিক আধা ঘণ্টা আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্ল্যান্টে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত থাকা সত্ত্বেও যান্ত্রিক জটিলতার কারণে একটি ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কেন্দ্রটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১,১০০ মেগাওয়াট থেকে এক লাফে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। আকস্মিক এই বড় পতনের কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৌশলীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রুটি চিহ্নিত করে ইউনিটটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন