
মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের ব্যর্থ অভিজ্ঞতার পর এবার মডেল বদল জরুরি।
ডিএনসির এই কর্মকর্তার মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে যারা ইয়াবা পাঠায়, তাদের স্থানীয় লিংকগুলো বেশিরভাগই রোহিঙ্গা চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ক্যাম্পের ভেতরে মাদক পরিবহনের গোপন পথ, রাতের আঁধারে পাহাড়ি রুট, আর নৌকা চলাচল-সবই পাচারকারীদের সুবিধা তৈরি করে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারের কিছু মানুষ সরাসরি, কিছু পরোক্ষভাবে এই নেটওয়ার্কে জড়িত। তারা টাকার প্রলোভনে রোহিঙ্গা গ্রুপগুলোকে ব্যবহার করছে। ফলে পাচারচক্র আরো শক্তিশালী হচ্ছে। রোহিঙ্গা আর স্থানীয়দের যৌথ নেটওয়ার্কই এখন জেলার সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা।
ড্রাগ ডিটেকশন ডগ সবচেয়ে জরুরি
ডিএনসি কর্মকর্তা সোমেন মণ্ডল বলেন, ‘আগে নৌরুট ও পাহাড়ি গিরিপথই প্রধান ছিল। এখন তারা স্থলপথের পাশাপাশি নতুন রেললাইনও ব্যবহার করছে। কক্সবাজারে ট্রেন সংযোগ চালুর পর ইয়াবা পরিবহনে এই রুট ব্যবহারের প্রমাণ আমরা পেয়েছি।’
ড্রাগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় ঘাটতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বড় বড় চালান ধরতে হলে আরো ‘ড্রাগ ডিটেকশন ডগ’ প্রয়োজন। ব্যাগ, কার্গো, মালামাল বা ট্রেনে দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ডগ স্কোয়াড অত্যন্ত কার্যকর।”
তিনি জানান, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক কুকুর ব্যবহার করা হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তার মতে, পর্যাপ্ত ডিটেকশন ডগ, আধুনিক স্ক্যানার এবং সোর্স-নেটওয়ার্ক থাকলে ইয়াবা চেইন ভাঙা অনেক সহজ হবে।
শুধু আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘শুধু আইন দিয়ে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা না বদলালে সীমান্তে যতই অভিযান দেই, তাতে বড় পরিবর্তন আসবে না।’
তিনি জানান, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার শহরের প্রায় ২৮ লাখ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আর্থিক সংকটে ভোগে। বেকারদের কাছে ইয়াবা নেটওয়ার্ক সহজে পৌঁছে যায়। পরিবার চালানোর চাপ তাদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিয়ে যায়। ইয়াবা তাদের জন্য টাকা পাওয়ার একটি ‘কুইক রুট’। এটা ঠেকাতে হলে বিকল্প সুযোগ দিতে হবে।
এসপি সাজেদুর রহমান আরো বলেন, ‘ইয়াবা কারবারে কেবল সংগঠিত দল নয়, বরং পরিবারভিত্তিক যুক্ত থাকা লোকজনের সংখ্যাও বাড়ছে। পরিবারে একজন বেকার থাকলে তারা সহজেই প্রলোভনে পড়ে। পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারলে ইয়াবা নেটওয়ার্কের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যাবে।’
এসপি জানান, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি-সব বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু এটি কখনোই চূড়ান্ত সমাধান নয়। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে এই গোলচক্র ভাঙা অসম্ভব। তিনি আরো বলেন, একজন যুবক যদি প্রতিদিন ৮০০-১০০০ টাকা আয় করতে পারে, সে কখনোই ১০-১৫ হাজার টাকার জন্য জীবনবিপন্ন ইয়াবা নেটওয়ার্কে যাবে না।
তিনি বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে, ইয়াবা কারবার নেটওয়ার্ক একাই ভেঙে পড়বে।
মন্তব্য করুন