সরকার কর্তৃক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তীব্র ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। পণ্য পরিবহনের ভাড়া ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে খুচরা বাজারে ডিম, মাছ এবং প্রায় সব ধরনের সবজির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ ভোক্তারা।
জ্বালানির দাম ও পরিবহন সিন্ডিকেট
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে, যা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এর পরপরই দূর-দূরান্ত থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানচালকেরা ট্রিপপ্রতি ভাড়া ২,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যশোর বা উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় একটি মাঝারি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৮,০০০ টাকা। তেলের দাম বাড়ার পর তা এক লাফে বেড়ে ২১,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকায় ঠেকেছে। এর ফলে প্রতি কেজি সবজি বা পণ্যের পেছনে পরিবহন খরচই ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
ডিমের বাজারে ডজন ১৬০ টাকা
পরিবহন খরচ ও আড়তে বাড়তি দামের কারণে গত কয়েকদিনের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তের প্রোটিনের প্রধান উৎসে এই টান পড়ায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মাছের বাজারে স্বস্তি নেই
মাছ পরিবহনে গাড়িভাড়া বাড়ার কারণে পাইকারি আড়ত থেকেই মাছ বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের। রাজধানীর রামপুরা ও যাত্রাবাড়ী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জাত ও আকারভেদে প্রতি কেজি মাছের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সবজির বাজারে রেকর্ড দাম
পরিবহন খরচের অজুহাতে সবচেয়ে বেশি নৈরাজ্য চলছে সবজির বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতা ও তদারকির অভাব
বাজারের এই লাগামহীন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। মিরপুর-১১ নম্বর বাজারে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে লিটারে ২০ টাকা, কিন্তু ব্যবসায়ীরা কেজিতেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজারে কোনো সঠিক নজরদারি নেই। এই সুযোগে যে যার মতো দাম বাড়িয়ে পকেট কাটছে।”
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর দায়িত্বশীলরা মনে করছেন, পরিবহন খরচ যতটুকু বেড়েছে, ব্যবসায়ীরা তার চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা করার জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিয়মিত ও কঠোর মোবাইল কোর্ট বা বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি এখন সাধারণ মানুষের।
মন্তব্য করুন