ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডার যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ৯ জন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার রাতে দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের মহোবার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ‘রাজ কল্পনা ট্রাভেলস’-এর একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) স্লিপার বাসে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন আরোহী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অভিযোগ, যাতায়াতের পথে বাসের ভেতরে পোড়া গন্ধ এবং ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে তারা আতঙ্কিত হয়ে চালক ও কন্ডাক্টরকে দ্রুত গাড়ি থামানোর অনুরোধ করেন। তবে চালক যাত্রীদের সেই সতর্কতা সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে বিষয়টিকে অত্যন্ত ‘স্বাভাবিক’ বলে উড়িয়ে দেন এবং যাত্রা অব্যাহত রাখেন। এমনকি আগুন লাগার ঠিক আগ মুহূর্তেও বাসের কেবিনে চালক ও কন্ডাক্টর ধূমপান করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাসের ভেতরে আগুন ও ধোঁয়ার তীব্রতা বাড়লে যাত্রীরা প্রাণভয়ে চিৎকার শুরু করেন, যার জবাবে চালক অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও নিষ্ঠুর মন্তব্য করে বলেন, “আপনারা মরলে মরুন, আমরা বাস থামাব না।” এর কিছুক্ষণ পরই চালকের আসনের কাছ থেকে তীব্র অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো স্লিপার বাসে ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকজন যাত্রী জানালা দিয়ে লাফিয়ে বের হতে সক্ষম হলেও, অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন। শেষ পর্যন্ত ধোঁয়া ও আগুনের গ্রাসে ৯ জন যাত্রী দগ্ধ হয়ে এবং শ্বাসরোধে মারা যান এবং অন্যান্যদের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তে এই দুর্ঘটনার পেছনে চালক ও বাস কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা এবং আইন লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির বিরুদ্ধে আগে থেকেই অন্তত ৬০টি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা ছিল এবং যার মধ্যে ২০টি চালানের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার রুপি জরিমানা বকেয়া ছিল। এছাড়া বাসটিতে কোনো ধরনের কার্যকরী অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না এবং অতিরিক্ত সিট বসানোর লোভে জরুরি বহির্গমন পথগুলো (Emergency Exits) সম্পূর্ণ ব্লক করে রাখা হয়েছিল। অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে বাসের লাগেজ হোল্ডে নেলপলিশ এবং কাগজের মতো অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ পরিবহন করা হচ্ছিল, যা আগুনকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্ত বাস চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং আহত যাত্রীদের স্থানীয় কৈলাশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন