দেশে ক্যাশলেস অর্থনৈতিক ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (এলওআই) বা প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক নীতিগত সভায় এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের উদ্যোক্তাদের বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, রবি আজিয়াটার মূল প্রতিষ্ঠান চালিত বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক, বাংলালিংক ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, ভুটানের উদ্যোগে ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কনসোর্টিয়াম ও শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫২টি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে এই ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এলওআই দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদন পাওয়া এই ব্যাংকগুলোর কোনো ভৌত শাখা, উপশাখা বা প্রথাগত কাউন্টার থাকবে না। গ্রাহকেরা সম্পূর্ণভাবে মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট এবং অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা, আমানত রাখা ও ঋণ গ্রহণসহ সব ধরনের ব্যাংকিং সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। তবে এই ব্যাংকগুলোকে চূড়ান্ত লাইসেন্স বা ব্যবসা শুরুর অনুমতি পেতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া শর্তাবলি পূরণ করতে হবে এবং প্রতিটি ব্যাংককে ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিশ্চিত করতে হবে। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর আত্মপ্রকাশ বাংলাদেশের ফিনটেক (FinTech) সেক্টরে এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মন্তব্য করুন