দেশের স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) উৎপাদনের এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে ছাড় করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, এলজিইডির স্থানীয় দপ্তরসমূহ, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারগুলোকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের খালি ছাদ ব্যবহার করে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব রাজস্ব যোগ করে উৎপাদন দ্বিগুণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ছাদভিত্তিক এই সৌরপ্রকল্প থেকে মোট ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেক (১৫০ মেগাওয়াট) সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব দাপ্তরিক কার্যক্রমে ব্যবহার করবে, যা দিনের বেলায় লোডশেডিংয়ের মধ্যেও তাদের সেবা সচল রাখবে। বাকি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা হবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, গ্রিডে বিদ্যুৎ বিক্রির মাধ্যমে সৌর প্যানেল স্থাপনের সম্পূর্ণ খরচ আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে উঠে আসবে। এরপর থেকে এই খাতটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি স্থায়ী ও অতিরিক্ত নিজস্ব রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করবে। বিদ্যুৎ বিভাগের তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন—ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল, গ্রামীণ শক্তি ইত্যাদি) সাথে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ২০ বছরের সার্ভিসিং ও ওয়ারেন্টি চুক্তি স্বাক্ষর করবে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে এই বিশাল গ্রিন এনার্জি কর্মসূচি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আলাদা চিঠি দিয়ে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন