প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এবং বহিস্থ খাতের ইতিবাচক ধারায় ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট গ্রস (স্থূল) রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন (৩ হাজার ৬৩১ কোটি) মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত দেশের এই মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তথা ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল’ (বিপিএম-৬) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রকৃত ও অবিলম্বে ব্যবহারযোগ্য নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির এই শক্তিশালী অবস্থান ও স্থিতিশীলতা প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে অর্জিত হয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির কারণে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। তথ্যমতে, গত ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে প্রায় ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩.৮ শতাংশ বেশি। রিজার্ভের এই স্বস্তিদায়ক অগ্রগতির সুবাদে বাংলাদেশ বর্তমানে ৪ থেকে ৬ মাসের আমদানি ব্যয় অনায়াসে মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে, ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বড় ধরনের নীতিগত সুবিধা দেবে।
মন্তব্য করুন