ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর (Aramco) বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, রিয়াদের অত্যন্ত সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু এবং ইয়ানবুর প্রধান তেল শোধনাগারগুলোকে নিশানা করে এই বিপুলসংখ্যক ড্রোন, ক্রুজ ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই আকস্মিক হামলার জেরে সৌদি রাজধানী রিয়াদে দীর্ঘদিন পর বিমান হামলার আশঙ্কায় সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করে। হামলার পরপরই রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি আরামকো জ্বালানি ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এই ঘটনার কারণে বিমানবন্দরের বেসামরিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে শত শত ফ্লাইট বাতিল এবং ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অবশ্য দাবি করেছে যে, তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একটি বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং অন্যান্য ড্রোন হামলাগুলো সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে আরামকোর তেল অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত জুলাই মাসে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হুথিদের এটিই সবচেয়ে বড় এবং সরাসরি আঘাত, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এই ভয়াবহ হামলার পর ওই অঞ্চলে অবস্থানরত এবং ভ্রমণরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য জরুরি ভ্রমণ ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (US State Department)। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এই অঞ্চলে নতুন করে ভ্রমণের পরিকল্পনা গুরুত্বসহকারে পুনর্বিবেচনা করার জন্য লেভেল-৩ (Level 3) সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সাথে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি অঞ্চলের ২০ মাইলের মধ্যে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকদের যাতায়াতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা লেভেল-৪ (Level 4) নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে, এই সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক দপ্তর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য মার্কিন স্বার্থের ওপর ইরান বা তাদের সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো পাল্টা হামলা চালাতে পারে। বেসামরিক বিমানবন্দরগুলো হামলার আওতায় আসায় মার্কিন নাগরিকদের আকস্মিক ফ্লাইট বাতিল বা আকাশসীমা বন্ধের মতো পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন