
জনগণের চলমান আন্দোলনের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতার ওপর ভিত্তি করে যেকোনো মুহূর্তে সকল দাবি এক দফায় রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার সকালে ১১-দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস এলাকায় এক বিশাল পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বর্তমান দাবির সংখ্যা পরিস্থিতির প্রয়োজনে আরও বাড়তে পারে, আবার সংকট ঘনীভূত হলে সব দফা বিলুপ্ত করে সরকারের পতন বা এক দফার চূড়ান্ত ঘোষণা আসার প্রয়োজন হতে পারে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে দ্রুত জনগণের ভাষা বোঝার এবং তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১-দলীয় ঐক্যের এই ঢাকা-রংপুর লংমার্চটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। জোটের নেতাদের মতে, এটি তাদের চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসূচি, যার আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে সফল লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের লংমার্চে জোটের পক্ষ থেকে প্রধানত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দেশের সার্বিক সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য একটি শক্তিশালী কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার, দেশের চলমান তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সার সংকটের টেকসই সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
টাঙ্গাইলের এই গুরুত্বপূর্ণ পথসভায় রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। এতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ছাড়াও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ জোটের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে বিরোধী দলগুলোর উত্থাপিত ৬ দফা দাবি ইতিমধ্যেই ৮ দফায় উন্নীত হয়েছে। এই ৮ দফা দাবি পূরণে সরকার যদি গড়িমসি করে এবং পরিস্থিতি যদি চূড়ান্তভাবে ১ দফায় গিয়ে ঠেকে, তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে, যার সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।