সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বজয়ী এই হাফেজদের বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের মেধাবী সন্তানদের মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করার ওপর জোর দেন এবং দেশের যে কোনো ভালো অর্জনকে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "আপনারা বিশ্বমঞ্চে যে পুরস্কার ও গৌরব অর্জন করে এসেছেন, এটি শুধু আপনাদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং এটি পুরো দেশের অর্জন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকেই সমাজ ও রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার একটি ধারাবাহিক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হাফেজদের উৎসাহিত ও সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হলে তার সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং সমগ্র দেশ ভোগ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ সময় হাফেজদের শিক্ষকরা তাদের বর্তমান বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী গভীর মনোযোগ সহকারে তা শোনেন এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিয়মমাফিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত এই সম্মানজনক আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে বাংলাদেশের চারজন হাফেজ ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া। এছাড়া ৩০ পারা বিভাগে হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এবারই প্রথমবারের মতো যুক্ত হওয়া নারী বিভাগে বাংলাদেশের হাফেজারাও অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ পারা বিভাগে হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান এবং ৩০ পারা বিভাগে হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ তৃতীয় স্থান অর্জন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিজয়ী হাফেজরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কৃত হয়েছিলেন, সেই সূরার অংশবিশেষ প্রধানমন্ত্রীকে খালি কণ্ঠে গেয়ে শোনান। হাফেজদের সুমধুর তিলাওয়াত শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বই তুলে দেন। দেশের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাজের ক্ষেত্র বা ধরন আলাদা হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য একটাই—দেশে শান্তি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
ধর্মমন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এছাড়াও বিশ্বজয়ী হাফেজদের অনুপ্রেরণাদানকারী শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।