আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে তাঁর এই সফর নিশ্চিত করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈশ্বিক রাজনীতির সমীকরণে এই সফরটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা। বিশেষ করে, ২০১৯ সালের অক্টোবরের পর এটিই হতে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বেইজিং এবং নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে যে অচলাবস্থা ও চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, এই সফরের মধ্য দিয়ে তার বরফ গলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, সম্মেলনের প্রথম দিন অর্থাৎ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা সমাধান, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এবারের ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। ইতিমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ব্রিকসভুক্ত অন্যান্য জোটভুক্ত দেশের শীর্ষ নেতারা এই বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেন বা পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে শি জিনপিংয়ের এই সফর নিয়ে যে আন্তর্জাতিক জল্পনাকল্পনা চলছিল, বেইজিংয়ের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তার অবসান ঘটল এবং এখন সবার নজর এই শীর্ষ সম্মেলনের কূটনৈতিক ফলাফলের দিকে।