মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন (৯ম) জাতীয় বেতনকাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন স্কেলে বেতন পাওয়ার সুবিধা লাভ করবেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার মূল তারিখ অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও নিজ নিজ গ্রেড অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষারত বেসরকারি শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন এই বেতনকাঠামোটি মূলত ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ এই দুই অর্থবছরে মোট তিনটি ধাপে বা কিস্তিতে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীদের কথা বিবেচনা করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপে (১ জুলাই ২০২৬ থেকে) বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ দিয়ে এই গ্রেডগুলোর শতভাগ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে একই বছরের ১ জুলাই অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ দেওয়া হবে।
তবে মূল বেতনের এই সমহার সুবিধা পেলেও ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা থাকছে। ইন্টারনেট, মোবাইল ও প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতাসহ বিভিন্ন নতুন সুযোগ-সুবিধাগুলো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে চালু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকদের ভাতা সুবিধা সরকারি চাকরিজীবীদের মতো হুবহু এক হবে না। তা সত্ত্বেও, নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের এই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেশের শিক্ষা খাতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য অনেকাংশেই দূর করবে।