পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা সংলগ্ন ঢালে গতকাল (৩১ আগস্ট) এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে 'নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেস' নামক একটি যাত্রীবাহী বাস সেতুর এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায়। এই দুর্ঘটনায় সেতুর পূর্ব পাশের সুরক্ষামূলক রেলিং বা ব্যারিয়ারের প্রায় ৫০ মিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর পরই সেতু কর্তৃপক্ষ, হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি সরিয়ে নিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাসের তীব্র ধাক্কায় পূর্ব পাশের রেলিংয়ের ওপরের অংশ ভেঙে গেছে, তবে ভাগ্যবশত পশ্চিম পাশে বা মূল সেতুর মূল কাঠামোতে কোনো ক্ষতি হয়নি। সেতুর পিচঢালা সড়কে বাসের ঘর্ষণে কিছু দাগ পড়লেও তা কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নয়। প্রাথমিক প্রকৌশল মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ মিটার রেলিং সম্পূর্ণ মেরামত করতে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে অন্তত ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মাগুরা থেকে ঢাকাগামী বাসটি দুর্ঘটনার সময় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢালে নামার সময় বাসটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার, যা নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে অনেক বেশি। অতিরিক্ত গতির কারণেই চালক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। দুর্ঘটনায় বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন এবং তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেতু কর্তৃপক্ষ এই ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ টাকা দায়ী বাস কোম্পানির কাছ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং চালকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।