নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট (বুধবার) নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লাংটাং লিরুং শৃঙ্গে একটি হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে এই প্রলয়ঙ্কারী দুর্যোগের সূত্রপাত হয়. ধসে পড়া হিমবাহের পানি, বরফ ও পাথরের বিশাল স্রোত প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথজুড়ে ভটে কোশি এবং ত্রিশূলি নদী অববাহিকায় তীব্র পাহাড়ি ঢল ও কাদার স্তূপ সৃষ্টি করে. এর ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে.
বন্যার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মূল উপদ্রুত এলাকা রাসুয়া জেলা হলেও পানির তোড়ে মরদেহগুলো কয়েকশ মাইল দূরে ভেসে গেছে. জেলাভিত্তিক উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে চিতাওয়ানে সর্বোচ্চ ২৫৯টি, পূর্ব নাওয়ালপারাসিতে ১৮৪টি এবং পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে. এছাড়া গোর্খা, নুয়াকোট, ধাদলিং ও তানাহুন জেলা থেকেও অসংখ্য মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে. নিহতদের অনেকেরই পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় নেপাল সরকার বর্তমানে ২১টি হাসপাতালে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চালাচ্ছে.
দুর্যোগের ৫ম দিনে এসেও নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ১৯,৮৯৫ জন সদস্য সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন. সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টারই একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে. হেলিকপ্টার অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ টানেল ও পার্বত্য অঞ্চল থেকে শত শত স্থানীয় শ্রমিক এবং বিদেশী পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে. বর্তমানে ৩৭টি ট্রাক ও ৭টি হেলিকপ্টারের সাহায্যে উপদ্রুত এলাকায় জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানো হচ্ছে. তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং নতুন করে বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে.
উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি বর্তমানে নিখোঁজ থাকা প্রায় ৩,০০০ মানুষের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের পর্যটক এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক.