দেশে চলমান তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে。 বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬২টি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং ৪২টি কেন্দ্র আংশিক বা সীমিত সক্ষমতায় চলছে। ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যা গতকাল দিনের বেলাতেই সর্বোচ্চ ৩,৬৬৪ মেগাওয়াটে গিয়ে ঠেকেছে। এর আগে গত ১০ আগস্ট চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩,৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছিল। তীব্র গরমের মাঝে হঠাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জনজীবন বিষিয়ে উঠেছে এবং স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণেই এই বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ খাতের বড় অংশ জোগান দেওয়া গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো অচল হয়ে পড়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ডলার সংকটের কারণে কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের মতো তরল জ্বালানির তীব্র সরবরাহস্বল্পতা。 পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ না আসা। পিডিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো দিয়ে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করা হলেও যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেগুলোকে একটানা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে। পূর্বে লোডশেডিংয়ের পুরো চাপ ঢাকার বাইরে রাখা হলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ১২ আগস্ট থেকে ঢাকাতেও প্রাতিষ্ঠানিক লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ডিপিডিসি ও ডেসকো সূচি মেনে ডেসকো ও ডিপিডিসি এলাকায় দিনে ১ ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের পরিকল্পনা করলেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজধানীর বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে লিফট ও জরুরি পানির পাম্পের কার্যক্রম। ঢাকার বাইরের গ্রামীণ এলাকাগুলোর অবস্থা আরও করুণ, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।