ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আজ ২৪ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাকি ১৪ আসামির মধ্যে ৪ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে সম্পূর্ণ খালাস দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অপর আসামি হলেন শাহাদাত হোসেন শামীম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি হলেন—নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা দায়ের করলে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাত ও তার পরিবারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে নুসরাত রাজি না হওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা চলাকালীন তাকে কৌশলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বোরকা পরিহিত ৪-৫ জন ঘাতক নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়া নুসরাত মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান। মৃত্যুর আগে দেওয়া নুসরাতের জবানবন্দি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠলে সরকার দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলার ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। নিম্ন আদালতের সেই রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা আপিল ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ উচ্চ আদালত চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করলেন। নুসরাতের পরিবারের পক্ষ থেকে এই রায়ের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, তারা প্রধান আসামিদের সাজা বহাল থাকায় সন্তুষ্ট, তবে খালাস পাওয়া আসামিদের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।