বাংলাদেশে তীব্র জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশের ঘাটতিতে গত দুই বছরে ৪৫৭টি শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে শুধু চলতি ২০২৬ সালেই ৬১,৮৮১ জনেরও বেশি শ্রমিক চরম কর্মসংস্থানে সংকটে পড়েছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও শিল্প পুলিশের সাম্প্রতিক যৌথ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া মোট কারখানার মধ্যে ১৫১টি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের (১০৮টি BGMEA, ৩৫টি BKMEA এবং ৮টি BTMA অধিভুক্ত), এবং বাকি ২৮৭টি অ-পোশাক উৎপাদনকারী সাধারণ ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের। দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চল যেমন গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ এবং নরসিংদীতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চরমভাবে ভেঙে পড়ায় এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। আগস্ট ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, বহু কারখানায় গ্যাসের চাপ শূন্যের কাছাকাছি (২.৫ PSI-এর নিচে) নেমে যাওয়ায় ডাইং, স্পিনিং ও ওয়াশিং ইউনিটের বয়লার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে কারখানাগুলো সচল রাখতে মালিকপক্ষকে বিকল্প হিসেবে অতিরিক্ত ব্যয়বহুল ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ প্রায় ১৫০% থেকে ৩৯০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই চরম জ্বালানি সংকটের সাথে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক মন্দা এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য সময়মতো ব্যাংক এলসি (Letter of Credit) খুলতে না পারার মতো তীব্র আর্থিক ও মূলধন ঘাটতি। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কারখানার মালিকরা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দেওয়া সময়সীমা (Shipment Deadline) মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যার ফলে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো তাদের অর্ডার বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নিয়ে ভারত বা ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে দিচ্ছে。 সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩০% থেকে ৫০% হ্রাস পাওয়ায় গত কয়েক মাসে গাজীপুরের ইউনিক ডিজাইনার্স বা লিথ গ্রুপের মতো বড় বড় পোশাক কারখানাগুলো তাদের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। বিজিএমইএ এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, সরকারের তরফ থেকে যদি অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার এবং ঋণের শর্ত শিথিল করার কোনো জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে আরও প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০টি গ্যাস-নির্ভর কারখানা খুব শীঘ্রই স্থায়ীভাবে বন্ধের মুখে পড়তে পারে, যা দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।