তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যকার নবগঠিত ত্রিদেশীয় সামরিক জোটে উত্তর আফ্রিকার শক্তিশালী দেশ মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সম্প্রতি আল-জাজিরা আরবি-এর ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সম্ভাবনার কথা উন্মোচন করেন। গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে তিন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর (NATO) ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো যৌথ প্রতিরক্ষানীতি অনুসরণ করে, যার অর্থ জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর বাইরের সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং বাকি দেশগুলো সামরিকভাবে পাশে দাঁড়াবে।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান উল্লেখ করেছেন যে এই জোটের দরজা অন্যান্য দেশের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং এই প্রক্রিয়ায় মিসরের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত জোরালোভাবে সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা, বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এবং লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার পটভূমিতে এই জোট গঠন করা হয়েছে। জোটের শরিক হিসেবে সৌদি আরব তার বিশাল জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, পাকিস্তান তার পারমাণবিক সক্ষমতা ও বিশাল সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী এবং তুরস্ক তার উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও ড্রোন উৎপাদন শিল্পকে কাজে লাগাবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জোটের দেশগুলো নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ড্রোন প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব জোরদার করবে। তুরস্ক ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে এই চুক্তিটি নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অক্ষ বা গোষ্ঠী নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি টেকসই আঞ্চলিক প্রচেষ্টা মাত্র। যদি কায়রো এই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার নিরাপত্তা মানচিত্রে চার বৃহৎ মুসলিম সামরিক শক্তির এক অভূতপূর্ব কৌশলগত জোট তৈরি হবে।